Narayanganj High School 125 Years !!!

নারায়ণগঞ্জে ব্যাতিক্রমী মুদ্রা প্রদর্শনী নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমৰ নারায়ণগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে শনিবার দিনব্যাপি অনুষ্ঠিত হলো স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশ গ্রহনে মুদ্রা প্রদর্শনী। প্রদর্শনীতে সাম্প্রতিক সময়ের বিরাশিটি দেশের মুদ্রাসহ, নবাব সিরাজ উদ্দোলার সময়ের মুদ্রা, ১৩০০ বছর আগের মুদ্রাও প্রদর্শীত হয়।
প্রায় দু’শ বছর আগে পলাশীর আমবাগানে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব পরাজিত হয়েছিলেন ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর হাতে। সে সময়ের বাংলার একটি মুদ্রা প্রদর্শিত হচ্ছিলো নারায়ণগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের মুদ্রা প্রদর্শনীতে। নবাবকে পরাজিত করার পর প্রচলন করা ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর মুদ্রাও ছিলো এখানে। আবার ছিলো প্রায় তেরোশত বছর আগের ভারতের মুদ্রাও। এই মুদ্রাগুলি এনেছিলো স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী ইসরাত জাহান ঐশী। সে জানায় তার চাচা বারেক তালুকদার এ মুদ্রার সংগ্রাহক। তিনি-ই তাকে এ মুদ্রগুলি দিয়েছে। চাচাকে দেখে তারও মুদ্রা সংগ্রহের শখ তৈরী হয়েছে।
বিভিন্ন দেশের মুদ্রার ত্রিশটি একেকটি মুদ্রা মনে করিয়ে দিচ্ছিলো একেকটা সময়কে, একেকটা দেশকে। শনিবার নারায়ণগঞ্জ উচচ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহনে এ প্রদর্শনী পরিণত হয় প্রায় তেরোশ বছর সময়ের বিরাশি দেশের কয়েকহাজার মুদ্রার এক সমৃদ্ধ প্রদর্শণীতে। যারা কয়েন নিয়ে এসেছিলো আর যারা দেখতে এসেছিলো দু’পক্ষের মধ্যেই ব্যাপক উৎসাহ তৈরী করে ব্যাতিক্রমী এ প্রদর্শনী। প্রদর্শনী দেখতে আসা স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র নিখিল হোসেন আমন জানালো, কয়েন মানে আমরা মনে করতাম যে পাঁচ টাকার বেশি কয়েন হতে পারেনা। কিন্তু সৌদি আরব, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে বিশ টাকা, পঞ্চাশ টাকার কয়েন রয়েছে। এখানে না এলে তা জানতাম না।
নবম শ্রেণীর ছাত্র আল শাহরিয়ার মুন জানালো, জার্মান ও গ্রীসের মুদ্রা খুবই সুন্দর। তবে আমাদের দোয়েল পাখির ছাপওয়ালা দুই টাকার নোটটি আসলেই খুব সুন্দর। এজন্যই এটি বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর মুদ্রা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের কাগজের টাকার সাথে এ টাকাটি থাকলে বোঝা যায় যে কেন এটি বিশ্বে সেরা হয়েছে।
প্রদর্শনীটি দেখতে নারায়ণগঞ্জ উচচ বিদ্যালয়ের বাইরে আরো বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরাও এসেছিলো। এ প্রদর্শনীর আয়োজনে মূল ভূমিকায় ছিলো স্কুলের ইংরেজীর শিক্ষক সাথী সাহা। তিনি জানালেন, বিশ্বের ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতেই তাদের এ আয়োজন। তবে এত বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী এত কয়েন নিয়ে প্রদর্শনীতে অংশ নেবে তা তারা ধারনা করেননি। এ ব্যাপক অংশগ্রহন এ আয়োজন নিয়মিত করতে আমাদের উৎসাহিত করেছে।
প্রদর্শনীতে এসে বাংলাদেশ গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক কবি অসীম সাহা বললেন, নারায়ণগঞ্জ অতীতেও একটা সংস্কৃতি চর্চার জায়গা ছিলো। এ ধরনের প্রদর্শনী প্রমান করে নারায়ণগঞ্জ সে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। সাম্প্রতিক সময়ে খুন হত্যাসহ নানা নেতিবাচক বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ আলোচিত হচ্ছে। তবে এর বাইরে নারায়ণগঞ্জে অনেক ভালো কাজ হয়। সেসব ভালো কাজের আয়োজনকে তুলে আনতে হবে, পৃষ্ঠপোষকতা দিতে হবে।
একই সাথে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের চিত্রাঙ্কন প্রদর্শনীও অনুষ্ঠিত হয়। দুটি প্রদর্শনীতে তিন শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহন করে। পরে অসীম সাহা মুদ্রা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনকারিদের মধ্যে পুরস্কার বিতরন করেন। #