International Banik Group

হরিনাম মহামন্ত্রে "নামোপাসনা" অংশগ্রহণ করুনঃ-হিন্দু জনতার কন্ঠস্বর হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে! সত্যাভিমুখে প্রথম গতি—প্রথম ঘূর্ণন সর্বদা জড়ের মধ্য দিয়া, অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়াই হইয়া থাকে। ইহা এড়াইবার উপায় নাই। এই-সকল অনুষ্ঠানের হৃদয়স্বরূপ এবং অন্যান্য বাহ্য ক্রিয়াকলাপের মধ্যে শ্রেষ্ঠ—নামোপাসনা। যাঁহারা পৃথিবীর অন্যান্য ধর্ম আলোচনা করিয়াছেন, তাঁহারা হয়তো লক্ষ্য করিয়া থাকিবেন যে, উহাদের ভিতর নামোপাসনা বলিয়া একটি অপূর্ব ভাব প্রচলিত। নাম অতিশয় পবিত্র বলিয়া পরিগণিত। ভগবানের নাম পবিত্রতম এবং ঐ নামই ঈশ্বর। ইহাই সত্য। বিশ্বজগৎ নামরূপ বই আর কি? আপনারা কি শব্দ ব্যতীত চিন্তা করিতে পারেন? শব্দ ও ভাবকে পৃথক করা যাইতে পারে না, উহারা অভিন্ন। চেষ্টা করুন, যদি কেহ এই দুটিকে পৃথক করিতে পারেন! যখনই আপনারা চিন্তা করেন তখনই শব্দ অবলম্বনে চিন্তা করেন। শব্দগুলি সুক্ষ্ম ভিতরের অংশ এবং ভাব বাহ্য অংশ; এ-দুটি সর্বদা একসঙ্গে আসিবে, ইহাদের পৃথক করা যায় না। একটি আর একটিকে লইয়া আসে। ভাব থাকিলেই শব্দ আসিবে, আবার শব্দ থাকিলেই ভাব আসিবে। সুতরাং সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড যেন ভগবানের বাহ্য প্রতীক-স্বরূপ, উহার পিছনে ভগবানের পুণ্য নাম রহিয়াছে। প্রত্যেক ব্যষ্টিদেহই রূপ এবং ঐ দেহবিশেষের পশ্চাতে উহার নাম রহিয়াছে। যখনই আপনি আপনার বন্ধু-বিশেষের বিষয় চিন্তা করেন, তখনই তাঁহার শরীরের কথা, এবং সঙ্গে সঙ্গে তাঁহার নামও আপনার মনে উদিত হয়। ইহা মানুষের প্রকৃতিগত ধর্ম। তাৎপর্য এই যে, মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দেখিলে বুঝা যায়, মানুষের চিত্তের মধ্যে রূপ-জ্ঞান ব্যতীত নাম-জ্ঞান আসিতে পারে না, এবং নাম-জ্ঞান ব্যতীত রূপ-জ্ঞান আসিতে পারে না। উহারা অচ্ছেদ্য সম্বন্ধে সম্বন্ধ। উহারা একই তরঙ্গের বাহিরের ও ভিতরের দিক্। এই কারণে সমগ্র জগতে নামের মহিমা ঘোষিত ও নামোপাসনা প্রচলিত দেখা যায়। জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে মানুষ নামমাহাত্ম্য জানিতে পারিয়াছিলে। আসুন সবাই, [হরে কৃষ্ণ] মহামন্ত্র জপ করি, জয় শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌর ভক্তবৃন্দ হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে! হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে!! নামোপাসনা ভক্তির গৌণ এবং মূখ্য বিভিন্ন মহাপুরুষের সিন্ধান্ত থেকে গৃহীত, সংকলনে-